ক্ষতিপূরণের আবেদন
সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের কাউকে হারিয়েছেন? আপনার শোকের সঙ্গে আমরাও আছি। আইন অনুযায়ী আপনার পরিবার ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী। এই টাকা কারও দয়া নয়, আপনার অধিকার। কীভাবে আবেদন করবেন, নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।
কীভাবে আবেদন করবেন
- দুর্ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হয়। আবেদন জমা দেওয়া যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বা বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয়ে।
- সঙ্গে লাগে নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র (শিশু হলে জন্মনিবন্ধন), মৃত্যুসনদের সত্যায়িত কপি, উত্তরাধিকার সনদ, ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে উত্তরাধিকারীদের সই করা ক্ষমতাপত্র, আর নাবালক উত্তরাধিকারী থাকলে অভিভাবকের ঘোষণাপত্র।
- আবেদনের পর একটি কমিটি ক্ষতি যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়। নিয়ম অনুযায়ী মোটামুটি দুই মাসের মধ্যে টাকা পরিবারের ব্যাংক হিসাবে যাওয়ার কথা।
- এই টাকা পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হয় না। কেউ টাকা চাইলে দেবেন না।
নিয়ম বদলাতে পারে; আবেদনের আগে বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সোর্স: Prothom Alo, The Daily Star
এই নিয়ম সড়ক দুর্ঘটনার জন্য। কর্মস্থল, আগুন বা অন্য দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা; সে ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, শ্রম দপ্তর বা একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
আইনে প্রাপ্য ৫ লাখ, পায় কজন
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এবং এর বিধিমালা অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবার ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী। অঙ্গহানি হলে বা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা না থাকলে ৩ লাখ, সেরে ওঠার সম্ভাবনা থাকলে ১ লাখ টাকা। টাকা আসে যানবাহনমালিকদের দেওয়া ফি থেকে গড়া একটি তহবিল থেকে, যা চালায় বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ড।
বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিআরটিএর হিসাবেই প্রায় ১৬ হাজার মানুষ সড়কে নিহত হয়েছেন; চেক পেয়েছে ২ হাজার ১৯৫টি পরিবার, অর্থাৎ মোটামুটি ১৪ শতাংশ। আবেদন করে দুই বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারের কথাও আছে সেখানে; এক পরিবারকে ফোন করে বলা হয়েছিল, ১ লাখ টাকা ঘুষ দিলে ৫ লাখ মিলবে।
এই ডিজিটাল খাতার ৬৩টি সড়ক-মৃত্যুর মধ্যে পরিবার কোনো টাকা পেয়েছে, এমন খবর আছে মাত্র ১০টিতে।