ক্ষতিপূরণ

আমাদের কথা

কেন এই খাতা

বাংলাদেশে প্রতিদিন মানুষ মারা যান সড়কে, নদীতে, কারখানায়, খোলা নালায়, পাশের ভবন থেকে পড়া গ্যাস সিলিন্ডারে। পত্রিকায় খবর হয় এক দিন। তারপর সবাই ভুলে যায়। পরিবারটি শেষ পর্যন্ত কিছু পেল কি না, পেলে কত, সেই খোঁজ আর কেউ রাখে না।

এই খাতা সেই খোঁজ রাখার চেষ্টা। প্রকাশিত সংবাদ থেকে একেকটি মৃত্যু নাম ধরে টুকে রাখা হয়, সঙ্গে থাকে প্রতিবেদনে উল্লেখিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ। যেখানে কোনো টাকার কথাই নেই, সেখানে খাতাও কোনো সংখ্যা বসায় না। এখন পর্যন্ত খাতায় আছে ১০১টি নাম।

আমাদের উদ্দেশ্য তিনটি।

সব তথ্য প্রকাশিত সংবাদ থেকে নেওয়া এবং প্রতিটি ঘটনার পাতায় মূল সোর্সের লিংক দেওয়া আছে। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কোনো ভুল চোখে পড়লে, বা আপনার জানা কোনো মৃত্যুর কথা এখানে না থাকলে, আমাদের জানান।

নকশার পেছনে: ডিটার রামস

Dieter Ramsজন্ম ১৯৩২

কম, কিন্তু আরও ভালো

Weniger, aber besser

এই ওয়েবসাইটের চেহারা আর চলন, দুটোই জার্মান শিল্পনকশাকার ডিটার রামসের দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত। অনেকে তাঁকে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী পণ্য নকশাকারদের একজন মনে করেন।

১৯৩২ সালে জার্মানির ভিসবাডেনে রামসের জন্ম। স্থাপত্য পড়েছেন, শিখেছেন কাঠের কাজ। ১৯৫৫ সালে স্থপতি ও অন্দরসজ্জার নকশাকার হিসেবে যোগ দেন ইলেকট্রনিক পণ্যের প্রতিষ্ঠান ব্রাউনে; ১৯৬১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন সেখানকার নকশা বিভাগের প্রধান। রেডিও, রেকর্ড প্লেয়ার, ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, শেভার: তাঁর হাতে ব্রাউনের পণ্য হয়ে ওঠে সরল, পরিষ্কার আর কাজের। ১৯৫৬ সালে হান্স গুগেলোর সঙ্গে নকশা করা রেডিও-ফোনোগ্রাফ এসকে ৪ ঘরের যন্ত্রকে আসবাবের সাজ থেকে মুক্ত করে; স্বচ্ছ ঢাকনার জন্য লোকে এর নাম দিয়েছিল ‘স্নো হোয়াইটের কফিন’। ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান ভিটসোর জন্য ১৯৬০ সালে তাঁর নকশা করা ৬০৬ ইউনিভার্সাল শেলভিং সিস্টেম আজও তৈরি হয়।

সত্তরের দশকের শেষ দিকে চারপাশের অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড় দেখে রামস নিজেকে প্রশ্ন করেন, তাঁর নকশা কি ভালো নকশা? উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি লেখেন ভালো নকশার দশটি নীতি। তাঁর পুরো দর্শন ধরা আছে তিন শব্দে: Weniger, aber besser, কম, কিন্তু আরও ভালো।

আমাদের প্রথম পাতার ক্যালকুলেটরটি তৈরি হয়েছে ব্রাউনের ইটি৬৬ ক্যালকুলেটরের আদলে, যা ১৯৮৭ সালে নকশা করেন ডিটার রামস ও ডিটরিখ লুবস। গোল উত্তল বোতাম, একটি মাত্র রঙিন সমান চিহ্নের বোতাম, শান্ত একটি পর্দা: সেখান থেকেই নেওয়া। প্রশ্ন ছিল, একজন মানুষের জীবনের দাম যদি হিসাব করতেই হয়, সেই যন্ত্রটা দেখতে কেমন হবে? ক্ষতিপূরণ ব্রাউন বা ডিটার রামসের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত নয়; এটি শুধু তাঁর কাজের প্রতি শ্রদ্ধা।

ভালো নকশার দশটি নীতি, আর এই খাতায় সেগুলো

  1. ভালো নকশা উদ্ভাবনীGood design is innovativeখবরের খাতাকে বানানো হয়েছে একটি ক্যালকুলেটর, কারণ এখানে আসলে জীবনের দামের হিসাবই কষা হয়।
  2. ভালো নকশা পণ্যকে কাজের করে তোলেGood design makes a product usefulপ্রতিটি বোতাম কোনো একটি হিসাব বদলায়; সড়ক দুর্ঘটনার পাতায় আছে আবেদনের নিয়ম।
  3. ভালো নকশা নান্দনিকGood design is aestheticএকটি গাঢ় কাঠামো, গোল বোতাম, একটি হালকা পর্দা। এর বাইরে প্রায় কিছু নেই।
  4. ভালো নকশা সহজে বোঝা যায়Good design is understandableটানা দাগ মানে টাকা দেওয়া হয়েছে, ভাঙা দাগ মানে শুধু ঘোষণা, ফাঁকা দাগ মানে কিছুই নেই।
  5. ভালো নকশা নিজেকে জাহির করে নাGood design is unobtrusiveরং আছে শুধু দুটি বোতামে; বাকি জায়গা নামগুলোর জন্য।
  6. ভালো নকশা সৎGood design is honestপ্রতিবেদনে টাকার উল্লেখ না থাকলে পর্দায় কোনো সংখ্যা বসে না; প্রতিটি তথ্যের সঙ্গে থাকে মূল সংবাদের লিংক।
  7. ভালো নকশা দীর্ঘস্থায়ীGood design is long-lastingখাতাটি বানানো হয়েছে বছরের পর বছর নাম জমিয়ে রাখার জন্য, এক দিনের খবরের জন্য নয়।
  8. ভালো নকশা খুঁটিনাটি পর্যন্ত যত্নে গড়াGood design is thorough down to the last detailবাংলা সংখ্যা, নামের ষষ্ঠী বিভক্তি, ছোট পর্দায় অক্ষরের প্রস্থ, সবই আলাদা করে মাপা।
  9. ভালো নকশা পরিবেশবান্ধবGood design is environmentally friendlyকোনো ভারী ছবি বা ভিডিও নেই; পুরোনো ফোনে আর দুর্বল সংযোগেও পাতা খোলে।
  10. যত কম নকশা, তত ভালোGood design is as little design as possibleযা দরকার নেই, তা রাখা হয়নি। রাখা হয়েছে শুধু মানুষগুলোর নাম আর তাঁদের হিসাব।

সোর্স